‘সজাগ’ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে প্রাচুর্যের বিশ্বে দারিদ্র্য, ভোগ-বিলাসপূর্ণ বিশ্বে ক্ষুধা এবং সাম্য ও সমঅধিকারের বিশ্বে ক্ষমতা ও অধিকারহীনতা কোনো অবস্থাতেই মেনে নেওয়া যায় না। তাই ‘সজাগ’ তার কার্যক্রম ও কর্মসূচির মাধ্যমে দারিদ্র্র্য, নিরক্ষরতা, রুগ্নতা, মর্যাদাহীনতা ও ক্ষমতাহীনতার বিরুদ্ধে সংগ্রামরত। ‘সজাগ’ কোনো প্রতিষ্ঠিত মতবাদ বা কৌশলকে সরাসরি অনুকরণ বা অনুসরণ করে না। নিজস্ব কর্মধারা তৈরির লক্ষ্যে অতীতকে বিশ্লেষণ করে বর্তমানকে সঙ্গে রেখে সুচিন্তিত পরিকল্পনার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ কর্মসূচি নির্ধারণই সজাগ-এর কর্মকৌশল। সজাগ-এর মূল প্রচেষ্টা হচ্ছে উন্নয়নের এমন একটি সহায়ক পরিবেশ তৈরি করাÑ যা সকলের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে। ‘সজাগ’ কোনো অবস্থাতেই এমন কোনো কর্মসূচি গ্রহণ কিংবা বাস্তবায়ন করবে না যেখানে জনগণের অংশগ্রহণ নেই। এখানে জনগণের অংশগ্রহণ বলতে কেবল কোনো প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় জনগণের উপস্থিতি বা দৈহিক শ্রম প্রদানকেই বোঝায় না। অংশগ্রহণ বলতে ‘সজাগ’ মনে করে:

  • সিদ্ধান্তগ্রহণ প্রক্রিয়া বা নীতিনির্ধারণে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা;
  • পরিকল্পনা প্রণয়ন বা কৌশল নির্ধারণে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করা;
  • উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন, মনিটরিং ও মূল্যায়নে জন-অংশগ্রহণের পরিবেশ বজায় রাখা।

 

উল্লেখিত বিষয়াদি বিবেচনাপূর্বক সজাগ-এর উন্নয়ন ধারণা হচ্ছে:

  • সকল উন্নয়ন কর্মসূচির অভীষ্ট লক্ষ্য হতে হবে মানুষের ভেতরে মানবতার জাগরণ ও সচেতনতা সৃষ্টি যা সমাজে স্বশাসিত গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ তৈরিতে তাদের উদ্বুদ্ধ করবে;
  • উন্নয়ন পরিকল্পনা ও কার্যক্রম হতে হবে সমন্বিত এবং জনগণের স্বপ্রণোদিত;
  • উন্নয়ন হতে হবে সমাজভিত্তিক, গ্রামকেন্দ্রিক এবং সংস্কারমূলক;
  • বয়স, পেশা, সামাজিক ও আর্থিক অবস্থানের উপর ভিত্তি করে দলভিত্তিক সাংগঠনিক কাঠামো তৈরি করা যা তাদের দ্বারা নিয়ন্ত্রণ, ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
  • আর্থিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি নৈতিক, সাংস্কৃতিক ও মানবিক উন্নয়নকে সমগুরুত্ব প্রদান।

 

সজাগ-এর সাধারণ নীতিমালা 

  • সজাগ-এর প্রতিটি সদস্য ও কর্মী নিম্নবর্ণিত পাঁচটি নীতিমালায় বিশ্বাসী এবং তা বাস্তবায়নে স্বপ্রণোদিত হয়ে কাজ করবে:
  • ‘সজাগ’ একটি ধর্ম ও দলনিরপেক্ষ উন্নয়নমূলক বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনÑ যা সমাজের মঙ্গলে, বিশেষ করে অসহায় ও পিছিয়ে পড়া মানুষের অধিকার, ক্ষমতায়ন ও উন্নয়নে অঙ্গীকারাবদ্ধভাবে নিয়োজিত থাকবে।
  • সততা, পারস্পরিক সম্মান বোধ, আত্মনির্ভরশীলতা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা হবে সংগঠনের মূল চালিকা শক্তি।
  • সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে নৈতিক, সাংস্কৃতিক ও মানবিকতার বিকাশ সাধন।  সংগঠনের আদর্শ ও উদ্দেশ্য অর্জনের লক্ষ্যে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করা এবং সংগঠনের অস্তিত্ব রক্ষায় যে-কোনো হুমকি মোকাবেলায় অঙ্গীকারাবদ্ধ হওয়া।
  • সরকার পরিচালিত জাতীয় উন্নয়ন ও সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ ও সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান এবং অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে মিলেমিশে কাজের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক আচার-আচরণ, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা।

 

সজাগ-এর সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যসমূহ 

  • এমন এক সমাজের সৃষ্টি করা যেখানে নিয়মানুবর্তিতা, শান্তি, প্রগতি, সহযোগিতা ও পারস্পরিক সম্মানবোধ বহাল থাকে এবং মানবাধিকার, সুশাসন ও ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠিত হয়।
  • দরিদ্রতা, অজ্ঞতা ও অধিকারহীনতা দূরীকরণের লক্ষ্যে সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক সমস্যা সম্পর্কে সকলের সচেতনতা বৃদ্ধি।
  • সমন্বিত উন্নয়ন কর্মসূচির মাধ্যমে বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক দুরবস্থা দূর করা।
  • সমাজে মানুষের সময়, জ্ঞান, শক্তি ও সম্পদের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে জনগণের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতি নিশ্চিত করা।
  • শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে অভীষ্ট জনগোষ্ঠীকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা।
  • ক্ষমতায়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গ্রামীণ জনগণকে নিষ্ক্রিয় প্রজা থেকে সক্রিয় নাগরিকে রূপান্তর করা।