‘সজাগ’ ধামরাই উপজেলার শৈলান গ্রামে অবস্থিত একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংগঠন। কয়েকজন উৎসাহী, সক্রিয় এবং দেশে-বিদেশে উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তির একান্ত প্রচেষ্টায় ১৯৮৬ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। সজাগ-এর পটভূমি বলতে হলে অবশ্যই উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, শৈলান গ্রামের তারুণ্যে উদ্বেলিত একদল যুবক নিজেদের মৌলিক চাহিদা পূরণ তথা শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ক্রীড়াচর্চার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে শারীরিক ও মানসিক উন্নয়নের লক্ষ্যে স্ব-উদ্যোগে ১৯৭০ সালে ‘মৌসুমী ছাত্র সংঘ’ নামে একটি যুব সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছিল। মহান মুক্তিযুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংসপ্রাপ্ত দেশ গড়ার ব্রতকে সামনে রেখে এবং সমাজের বিভিন্ন বয়স, শ্রেণি ও পেশার মানুষকে উন্নয়ন কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধের পরপরই মৌসুমী ছাত্র সংঘের সদস্যগণ সংগঠনের নাম পরিবর্তন করে ‘মৌসুমী জনকল্যাণ সংঘ’ নামকরণ করে। এ সংস্থাটি আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন কর্মকা- শুরু করে ১৯৭৩ সাল থেকে। তবে উদ্যোক্তাদের বেশিরভাগই বয়সে তরুণ, উন্নয়নে অনভিজ্ঞ এবং শিক্ষানবিশ হওয়ার কারণে তাদের সেই উদ্যোগ তেমন সফলতা বয়ে আনতে পারেনি। এই অসফলতা অনেকের মনে গভীর রেখাপাত করে। বর্তমান নেতৃত্বের উদ্যোগে মূলত ধামরাই উপজেলার আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখার লক্ষ্যে ‘সজাগ’ নামে ‘মৌসুমী জনকল্যাণ সংঘ’-এর নবযাত্রা শুরু হয় ১৯৮৬ সালে। দীর্ঘ ৩০ বছরের পথপরিক্রমার মধ্য দিয়ে বর্তমানে ‘সজাগ’ বেসরকারি উন্নয়ন সংগঠন হিসেবে সুপরিচিত ও সুপ্রতিষ্ঠিত।

‘সজাগ’ ধর্ম ও দলনিরপেক্ষ স্বেচ্ছাসেবী বেসরকারি উন্নয়ন সংগঠন। এটি মূলত সমাজে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও ক্ষমতাহীনদের ক্ষমতায়নে নিয়োজিত। ‘সজাগ’-এর মূল লক্ষ্য হচ্ছে ন্যায়ভিত্তিক গণতান্ত্রিক ও আত্মনির্ভরশীল সমাজ গঠন করা যেখানে সততা, ন্যায়পরায়ণতা, মানব-মর্যাদা, স্বাধীনতা, সাম্য, স্বচ্ছতা, শান্তি, সমৃদ্ধি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে। ‘সজাগ’ একটি বাংলা শব্দ যার অর্থ সচেতন বা জাগ্রত। পাশাপাশি, তিনটি বাংলা শব্দÑ ‘সমাজ ও জাতি গঠন’-এর সংক্ষিপ্তরূপ হচ্ছে ‘সজাগ’। এককথায় বলা যায় যে নামের মধ্যেই ‘সজাগ’-এর পরিচয় বিদ্যমান। পিছিয়ে পড়া দরিদ্র, নিরক্ষর, সহায়-সম্বলহীন জনগোষ্ঠীকে সংগঠিত, জাগ্রত, অনুপ্রাণিত, ক্ষমতায়িত ও উদ্যোগী করাই সজাগ-এর মূল কাজ।

‘সজাগ’ বিগত তিন দশক ধরে মূলত ধামরাই উপজেলাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ের উন্নয়ন সংগঠনসমূহের জন্য একটি অনুকরণীয় মডেল বিনির্মাণের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এনজিওদের বাস্তবায়িত গতানুগতিক উন্নয়ন ধারায় সংস্থাটি ইতোমধ্যেই উল্লেখযোগ্য কিছু নতুনত্ব ও অভিনবত্ব আনতে সমর্থ হয়েছে। সজাগ-এর এই ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগসমূহ হচ্ছে।

• একটি সুনির্দিষ্ট কর্মএলাকার মধ্যে সংস্থার উন্নয়ন কর্মকা- সীমিত রাখা।
• কর্মএলাকা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে কর্মরত গ্রামের পার্শ্ববর্তী গ্রাম বা সমাজকে অগ্রাধিকার দেওয়া।
• কর্মএলাকা থেকে সকল পর্যায়ের যোগ্য কর্মী নিয়োগ দেওয়া।
• সমিতি গঠন কিংবা সংগঠন বিনির্মাণের ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষকে সমান গুরুত্ব দেওয়া।
• মৌলিক উৎপাদনের খাত হিসেবে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে কৃষি-উপকৃষি ও কৃষকদের উন্নয়নকে প্রাধান্য দেওয়া।
• আর্থিক উন্নয়নে পুঁজি সরবরাহের ক্ষেত্রে ঋণ গ্রহণকারীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করে ঋণ কর্মসূচির Horizontal expansion এর চেয়ে Vertical expansion-এর কর্মপদ্ধতি প্রয়োগ করা।
• অভীষ্ট জনগোষ্ঠীকে মর্যাদাবান নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে গণতান্ত্রিক শাসন, মানবাধিকার, দায়িত্বশীল, ইতিবাচক চিন্তাচেতনা ও আচার-আচরণ বিষয়ে তাদের প্রশিক্ষিত করা।