ঋণ কর্মসূচি

সজাগ-এর চলমান বৃহত্তম কর্মসূচিসমূহের মধ্যে ঋণ কর্মসূচি অন্যতম। নিজস্ব অর্থায়নে ১৯৮৭ সালে এ কর্মসূচি শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের সহযোগিতা ও অংশীদারিত্বে ঋণ কর্মসূচি সম্প্রসারিত হয়। মূলধনে দরিদ্রদের প্রবেশাধিকার সৃষ্টি এবং অভিগম্যতা বৃদ্ধিই ঋণ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। সংগঠিত সমিতির সদস্যদের মধ্যে সঞ্চয়ী মনোভাব সৃষ্টি এবং বিভিন্ন আয়মূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে তাদের মধ্যে উদ্যোক্তা ও স্বাবলম্বী মনোভাব গড়ে তোলাও এ কর্মসূচির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

মৌসুমী ঋণ কার্যক্রম

বাংলাদেশ এখন মধ্যম আয়ের দেশে পরিনত হওয়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে সেই সাথে বাংলাদেশের কৃষিতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে কৃিষকাজে সময় লাগছে কম। এই অন্তবর্তীকালীন সময়ে কৃষকরা অধিক আয় ও মুনাফা লাভের জন্য কৃষির সাথে সাথে গবাদিপশুও লালন-পালন করে থাকে। সজাগ গরুমোটাতাজাকরণের ঋণ প্রদানের পাশাপাশি গাভী পালনের ঋণও প্রদান করছে যা প্রাথমিক পর্যায়ে মিনি খামারের মাধ্যমে বাস্তবায়ন হচ্ছে। তাছাড়া জাত উন্নয়নের জন্য সজাগ ইতোমধ্যে কৃত্রিম প্রজনন কর্মসূচি চালু করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এরই আলোকে উন্নত জাতের বুল লালন-পালন শুরু করেছে। ২০০৮ সালে সজাগ পশুবীমা কার্যক্রম চালু করার পর গবাদি পশু লালন-পালনে কৃষকদের মাঝে আর কোন ভয়-ভীতি কাজ করেনা।  বর্তমানে গবাদিপশু ঋণ কার্যক্রম সজাগ এর সর্ববৃহৎ কার্যক্রম।

গবাদি পশুপালন : সজাগ তার কারিগরি সহায়তার মাধ্যমে পশু-মৃত্যুর হার প্রায় শূন্য দশমিক তেষট্টি (০.৬৩)-এর কোঠায় নিয়ে এসেছে। প্রতিবেদনকালীন সময়ে সজাগ ৯০৭ সমিতিতে ৮১২৮ জন সদস্যর মাঝে ১৪ হাজার ৮শ’৩৪ টি গরুর বিপরীতে  ৫০ কোটি ১৩ লক্ষ  ৭৪ হাজার ৯ শত ৭৭ টাকা ঋণ বিতরণ করেছে।

গবাদি পশুর টিকাদানসজাগ এর উপকারভোগী সদস্যদের ক্রয়কৃত সকল গরুকে সজাগ-এর পক্ষ থেকে ২টি টিকা প্রদান করা হয়। তড়কা রোগের টিকা প্রদান করা প্রায় শেষ পর্যায়ে এবং এফএমডি রোগের টিকা প্রদান কর্মসূচি চলমান রয়েছে। এরই আলেকে তড়কা রোগের জন্য ১৫,০০০ মাত্রার  প্রতিষেধক টিকা প্রাণিসম্পদ দপ্তর থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।

গবাদি পশু বীমা : প্রতিবেদনকালীন সময়ে ১৭৬ টি মৃত গরুর বিপরীতে বীমা দাবি পূরণ করা হয়েছে ৪৮ লক্ষ ৯ হাজার ৫ শত টাকা  এবং বীমা প্রিমিয়াম জমা হয়েছে ৮৭ লক্ষ  ৭৮ হাজার ৯ শত ৯৮ টাকা । এ যাবৎ পর্যন্ত ১,৪৯,৮৩৫ টি গরুর বিপরীতে বীমা প্রিমিয়াম জমা হয়েছে ৩ কোটি ৯৮ লক্ষ ৯৫ হাজার ৭ শত ৩১ টাকা। ৯৭৫ টি মৃত গরুর বিপরীতে বীমার দাবি পূরণ করা হয়েছে ২ কোটি ৮৮ লক্ষ ৩৯ হাজার  টাকা। উদ্বৃত্ত রয়েছে ১ কোটি ৭০ লক্ষ ১১ হাজার ৮ শত ৩১ টাকা।

গবাদিপশু বীমা-সজাগ-এর অভিজ্ঞতা

বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং দারিদ্র্য বিমোচনে গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগী পালন একটি সম্ভাবনাময় ও লাভজনক খাত। বিভিন্ন কারণেই এই সম্ভাবনা বিরাজমান। যদিও আমরা জানি এনজিওদের ক্ষুদ্রঋণের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ জ্ঞাত কিংবা অজ্ঞাতসারে তাদের উপকারভোগীরা গবাদি পশু কিংবা হাঁস-মুরগী পালনে বিনিয়োগ করে থাকেন। তবে এর হার খুবই কম। কেননা এখানে উল্লেখ করা একান্ত প্রয়োজন যে, এই খাতটি যেমন সম্ভাবনাময়, তেমনি আবার ঝুঁকিপূর্ণও। গবাদিপশুর রোগবালাইয়ের প্রতিকার ও প্রতিষেধক ব্যবস্থা জোরদার কিংবা পর্যাপ্ত না থাকার কারণেই পশু-পক্ষী লালন-পালনকারীদের নানাধরণের ঝুঁকির সম্মুখীন হতে হয়। এ সকল ঝুঁকি মোকাবেলায় নূন্যতম ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারলেই এ সম্ভাবনাময় খাতটি বিকশিত হবে এবং দারিদ্র্য বিমোচনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে সমর্থ হবে। এছাড়াও এ খাতের উন্নয়ন ঘটাতে হলে সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতাও অত্যাবশ্যকীয়। এনজিওরা এ ক্ষেত্রে অনুঘটকের ভূমিকা পালন করতে পারে।

সজাগ-এর অভিজ্ঞতাঃ

খাদ্য নিরাপত্তা ও অবহেলিত কৃষকদের কথা ভেবে এবং এনজিওদেরকে মৌলিক উৎপাদন খাত যেমন শস্য, পশুপক্ষী ও মৎস্য চাষে ধারাবাহিকভাবে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে সজাগ গত দেড় দশক যাবৎ কৃষি এবং ছয় বছর যাবৎ গবাদি পশু পালনে নিবিড়ভাবে কাজ করছে। এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে উল্লেখিত উৎপাদন খাতসমূহ প্রকৃতি নির্ভর এবং ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু কৃষকদের দুরাবস্থার কথা চিন্তা করে এ ঝুঁকি হ্রাস কিংবা নিরসনে তেমন উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ নেই বললেই চলে। বহুল আলোচিত শস্যবীমা কিংবা গবাদি পশুর বীমার প্রয়োজনীয়তার কথা সকলেই স্বীকার করলেও তা বাস্তবায়নে তেমন কাউকে এগিয়ে আসতে দেখা যায় নি। গবাদি পশু পালনকারীদের অসহায়ত্বের কথা ভেবে সজাগ গবাদি পশু পালনের ক্ষেত্রে কিছু উদ্ভাবনী উদ্যোগ গ্রহণ করে। এরই প্রেক্ষিতে ২০০৮ সাল থেকে পরীক্ষামূলকভাবে গবাদি পশু বীমা প্রকল্প আরম্ভ করে।

গ্রাম পর্যায়ে গবাদি পশু পালনকারীদের সঙ্গে আলোচনাকালে তারা যে সমস্ত অভিযোগ তুলে ধরেছেন- তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে পশুর অকাল মৃত্যু। যা গবাদি পশু লালন-পালনে মূল বাধা হিসেবে কাজ করে। এছাড়া গবাদি পশুর মৃত্যুর কারণে তারা যে ক্ষতির সম্মুখীন হয়- তা অবর্ণনীয়। এসব ক্ষতির মোকাবেলা করতে পারলে বেশিরভাগ কৃষক গবাদি পশু পালনে উদ্যমী হবে এবং অনুপ্রাণিত বোধ করবে। এছাড়া গবাদি পশুর মৃত্যুর হার কমানোর পাশাপাশি ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে পারলে এ খাতের দ্রুত উন্নয়ন এবং সম্প্রসারণ ঘটবে। কেননা এ খাতটি কেবল ঝুঁকিপূর্ণ নয়, অধিক লাভজনকও বটে।

মৃত্যুর হার কমানোর উদ্যোগ গবাদি পশুর রোগ বালাই দমনে এর প্রতিষেধক এবং প্রতিকারের জন্যে সজাগ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রীধারী ৩ জন পশু চিকিৎসককে নিয়োগ দেয়। একই সঙ্গে সজাগ-এর কৃষি কর্মীদেরকেও পশুপক্ষী পালনে প্রাথমিক চিকিৎসা ও ভ্যাকসিন প্রদানের নিয়মকানুন সম্পর্কিত বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়- যাতে তারা এ বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করতে পারে। সজাগ-এর ঋণ সহায়তায় যে সকল গবাদি পশু ক্রয় করা হয়, সে সকল পশুর অনতিবিলম্বে ভ্যাকসিন প্রদান নিশ্চিত করা হয়। সজাগ-এর পূর্ণকালীন পশু সম্পদ কর্মী হিসেবে মোট ৩৫ জন প্যারাভেট নিয়োজিত আছে। এ ছাড়াও ৩ জন পশু চিকিৎসক অসুস্থ গবাদি পশুর চিকিৎসাসহ আনুসঙ্গিক পরিচর্যার পরামর্শ সার্বক্ষণিকভাবে প্রদান করে থাকে। গরু মোটাতাজাকরণের প্রদর্শনী ও প্রশিক্ষণের জন্যে সজাগ-এর নিজস্ব ফার্মে ১০০টি গরু (ষাড় ও গাভী) পালনের খামার স্থাপন করা হয়। এ খামারটি মূলত পশু লালন পালনকারীদের প্রশিক্ষণ ও প্রদর্শনী খামার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। সঠিক সময়ে গরুকে ভ্যাকসিন ও চিকিৎসা প্রদানের ফলে গরুর মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়। সজাগ ২০১৬ সালে  মোট ১৪,৮৩৪ টি গরু মোটাতাজাকরণের উপর ঋণ প্রদান করে- যার মধ্যে ১ম প্রান্তিকে মাত্র ৫১ টি গরু মারা যায়। যার মৃত্যুর হার ০.৩৪% এরও কম।

পশুর মৃত্যুতে ক্ষতিপূরণের উদ্যোগঃ একজন বর্গাদার, প্রান্তিক কিংবা ক্ষুদ্র কৃষক অথবা দারিদ্র্য পীড়িত মানুষের ক্ষেত্রে একটি গরু/মহিষ কিংবা ছাগল বেশ মূল্যবান সম্পদ। পশুর মৃত্যু তাদেরকে এমন ক্ষতির সম্মুখীন করে- যা তাদের একার পক্ষে সামাল দেয়া কিংবা মোকাবেলা করা খুবই কষ্টসাধ্য বিষয়। যে মূল্য দিয়ে তারা পশুটি ক্রয় করে তা যদি কোনোভাবে তাদেরকে ফেরতদানের ব্যবস্থা করা যায়, তাহলে এই সম্ভাবনাময় খাতটি তার নিজস্ব গতিতে বিকশিত হবে। কৃষক ও দরিদ্ররা পশু পালনে আগ্রহী হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে আত্মকর্মসংস্থানের পথও যে সুগম হবে- সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না।

ক্ষতিপূরণের বিষয়টি মাথায় রেখে সজাগ গবাদি পশু পালনকারীদের সঙ্গে বেশ কয়েকটি মতবিনিময় সভার আয়োজন করে। ঐ সকল সভায় গবাদি পশু পালনকারী প্রত্যেকে নিজেদের অসহায়ত্ব ও দুর্দশার কথা তুলে ধরেন। গরু পালনের ক্ষেত্রে বিশেষ করে প্রতিষেধক ও চিকিৎসা বিষয়ে তারা যে অরক্ষিত এবং যে কেউ যেকোনো সময়ে ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারেন সে বিষয়ে সকলে ঐক্যমত পোষণ করেন। এ ঝুঁকি থেকে বাঁচার জন্য সকলেই সমন্বিত উদ্যোগ ও অংশগ্রহণের তাগিদ অনুভব করেন। ফলে সজাগের পক্ষে নতুন উদ্যোগ গ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি হয়। বর্তমানে এ নতুন উদ্যোগটি মূলত সামাজিক দায়িত্ববোধের অংশ হিসেবেই সজাগ কর্তৃক সংগঠিত সমিতির সদস্যদের নিকট বিবেচিত।

গবাদিপশু পালনকারীদের সঙ্গে আলোচনান্তে পশু পক্ষী লালন পালনকারীর সুবিধার্থে পশু পক্ষীর মৃত্যুজনিত ক্ষতিপূরণে পশু বীমার বিষয়টি এক কথায় আলোচনায় অংশগ্রহণকারী প্রত্যেকে অনুমোদন করেন এবং প্রতি মৌসুমে অর্থাৎ ৬ মাসের মেয়াদের জন্য গরু বীমার প্রিমিয়াম হিসাবে গরু প্রতি ২০০.০০ (দুইশত) টাকা প্রদানে সম্মতি জ্ঞাপন করেন। ষন্মাসিক ভিত্তিক এ প্রিমিয়াম কেবলমাত্র গরুমোটাতাজাকরণের জন্য প্রযোজ্য। এ দু’শত টাকা ঋণ প্রদানের সময় কর্তন করা হবে নাকি ঋণ পরিশোধের সময় অতিরিক্ত দু’শত টাকা প্রদান করা হবে সে বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। যদিও বেশীরভাগ অংশগ্রহণকারী এবং সজাগ-এর কর্মীরা ঋণ প্রদানের সময় এ টাকা কর্তনের বিষয়ে নিজেদের অভিমত দিয়েছেন। কিন্তু স্বতঃফুর্তভাবে নিজ দায়িত্বে প্রিমিয়াম প্রদান করার জন্য ঋণগ্রহীতাদেরকে অনুরোধ জানানো হয়। কারণ সজাগ সর্বদা বিশ্বাস করে যে, অগ্রীম কর্তন অনেকটা চাপিয়ে দেয়ার মনোবৃত্তিকে লালন করে। আর স্বতঃফুর্তভাবে স্বেচ্ছায় প্রদানের সঙ্গে দায়িত্বশীল মনোভাব ও আচরণ প্রদর্শিত হয়। যা হোক, যদিও অনেকের মনে ভিত্তিহীন আশংকা ছিল যে, গবাদি পশু পালনকারীরা সম্মতি দিলেও ঋণ ফেরতের সময় তারা বিভিন্ন অজুহাত দেখাবে এবং এরই ভিত্তিতে হয়তো প্রিমিয়ামের অতিরিক্ত দুইশত টাকা প্রদান করবে না। কিন্তু গবাদি পশু পালনকারীরা কর্মীদের এ আশংকাকে অমূলক ও ভ্রান্ত হিসাবে প্রমাণ করেছে। ঋণ ফেরতের সময় ইতিপূর্বে প্রদত্ত সম্মতি অনুযায়ী প্রত্যেক ঋণগ্রহীতা গবাদি পশুর প্রিমিয়াম হিসাবে গরু প্রতি দু’শত টাকা অতিরিক্ত প্রদান করেছে যা সত্যিই উৎসাহ ও আশাব্যঞ্জক। এ সাফল্য ও কৃতকার্যতার পেছনে একদিকে যেমন অংশগ্রহণকারী সকলের দৃঢ় মনোবল ও একাগ্রতা কাজ করেছে, অন্যদিকে তেমনি সাংগঠনিক কর্মকান্ডের নৈপুণ্য ও পারস্পরিক আস্থা বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছে।

বীমার মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা বীমার মাধ্যমে আর্থিক সুবিধার বিষয়টি শর্ত সাপেক্ষ। যেমন গরুর মালিককে অবশ্যই সজাগের কর্মীদের পরামর্শ অনুযায়ী গরুর চিকিৎসা, ভ্যাকসিন ও গরুর পরিচর্য্যা করতে হবে। ছয় মাসের জন্য প্রিমিয়াম দিতে হবে। ক্রয়কৃত গরুর স্বাস্থ্য কার্ড অবশ্যই গ্রহণ করতে হবে। সুষ্ঠু পরিচর্য্যার পরও যদি পশুর মৃত্যু ঘটে তাহলে কৃষক যে মূল্যে গরু ক্রয় করেছিল সে মূল্যসহ যত মাস পশুটি যে লালন পালন করেছে ততমাস মাসিক এক হাজার টাকা হিসাবে লালন পালনের খরচ হিসেবে প্রদান করা হবে। অর্থাৎ কোন কৃষক যদি পঁচিশ হাজার টাকা দিয়ে গরু ক্রয় করে থাকে তাহলে উক্ত টাকাতো সে পাবেই, সাথে সাথে সে যদি ৫ মাস উক্ত গরুটি লালন পালন করে থাকে তাহলে ক্রয়ের পঁচিশ হাজার টাকার সাথে পাঁচ হাজার টাকা যোগ হয়ে সে পাবে ত্রিশ হাজার টাকা। গত ৮ বছর যাবৎ এ ভাবেই গরুর বীমা ধারাবাহিকভাবে পরিশোধ করা হচ্ছে।

এ উদ্যোগের স্বচ্ছতা এবং অংশগ্রহণকারীদের অবগতির জন্যে নিম্নোক্ত ছকে পশু বীমা কার্যক্রমের প্রিমিয়াম আদায় ও বীমার দাবি পূরণের তথ্য প্রদান করা হলোঃ

 

মৌসুম বিতরণকৃত    গরুর সংখ্যা বীমা আদায় মৃত গরুর   সংখ্যা মৃত্যুর হার বীমা প্রদান উদ্বৃত্ত
জুলাই-ডিসে ২০০৮ ২,৮১০ ৫,৬২,০০০ ১৪ ০.৫০% ২,১৭,১০০ ৩,৪৪,৯০০
জানু-জুন ২০০৯ ৩,৮৫৬ ৭,৭১,২০০ ৩২ ০.৮৩% ৫,৬৪,৩০০ ২,০৬,৯০০
জুলাই-ডিসে ২০০৯ ৫,৬২৭ ১১,২৫,৪০০ ৪৯ ০.৮৭% ৯,০৮,৯৫০ ২,১৬,৪৫০
জানু-জুন ২০১০ ৭,৬৪৪ ১৫,২৮,৮০০ ৩৪ ০.৪৪% ৫,৩৯,৪০০ ৯,৮৯,৪০০
জুলাই-ডিসে ২০১০ ৯,৪৭৩ ১৮,৯৪,৬০০ ৩৯ ০.৪১% ৮,১৭,০০০ ১০,৭৭,৬০০
জানু-জুন ২০১১   ১১,৪৩০ ২২,৮৬,০০০ ৫৩ ০.৪৬% ১০,১৯,৬০০ ১২,৬৬,৪০০
জুলাই-ডিসে ২০১১   ১৪,১০০ ২৮,২০,০০০ ৬৪ ০.৪৫% ১৩,৪৯,৯০০ ১৪,৭০,১০০
জানু-ডিসে ২০১২ ২৮,০০০ ৫৬,০০,০০০ ১৫৫ ০.৫৫% ৩৬,৬১,৮০০ ১৯,৩৮,২০০
জানু-অক্টো ২০১৩ ১৭,৩০০ ৬৯,২০,০০০ ২২১ ১.২৭% ৫৪,৪২,২০০ ১৪,৭৭,৮০০
জানু-অক্টো ২০১৪ ১৭,৩৮৮ ৬৯,৫৫,২৮৩ ১১১ ০.৬০% ২৫,৫৯,৭৫০ ৪৩,৯৫,৫৩৩
জানু-ডিসে ২০১৫ ১৭,৫৮২ ৬৫,৫১,৯৮৮ ১৪৩ ০.৮১% ৪১,৪৩,৫০০ ২৪,০৮,৪৮৮
নভে-অক্টো ২০১৬ ১৪,৭৫৫ ২৯,৮৬,৬৬০ ৬০ ০.৪০% ১৬,৬০,৪০০ ১৩,২৬,২৬০
মোট ১,৪৯,৯৬৫ ৪,০০,০১,৯৩১ ৯৭৫ ০.৬৫% ২,২৮,৮৩,৯০০ ১,৭১,১৮,০৩১

 

উপসংহারঃ গবাদি পশুর বীমা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও অবহেলিত একটি বিষয়। প্রান্তিক, ক্ষুদ্র ও বর্গাদার চাষীর জন্যে এটা কত উপকারী তা ভাষায় প্রকাশ করার মত নয়। সজাগ-এর এই অর্জন ও কৃতকার্যতাকে যথেষ্ট গুরুত্ব সহকারে দেখার বিষয় রয়েছে। আমরা সজাগ-এর পক্ষ থেকে এ অর্জন ও সফলতাকে উদযাপন করতে চাই। উৎসাহ ও সাহস যোগাতে চাই দরিদ্র কৃষকদের যারা জাতির অন্ন, খাদ্য ও আমিষের যোগান দাতা। সজাগ-এর পক্ষ থেকে আমরা আবারো দৃঢ়তার সঙ্গে উচ্চারণ করতে চাই যে- যদি সততার সঙ্গে, নায্যতার সঙ্গে কোনো প্রকার বৈষম্য ও প্রবঞ্চনা-ছলছাতুরীর প্রশ্রয় না নিয়ে অবহেলিত কৃষক ও দরিদ্রদের সঙ্গে তাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কাজ করা যায়, তাহলে তাদের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করা সম্ভব। একমাত্র তারাই কর্তব্যপরায়ণতার সঙ্গে নিজেদের উন্নয়ন বা পরিবর্তনের সঠিক ধারণা ও পথের পথরেখা আকতে পারে। শুধু দরকার সততা, নিষ্ঠা ও কর্তব্যপরায়ণতার সঙ্গে তাদের পাশে দাঁড়িয়ে সাহস ও উৎসাহ যোগানো। প্রয়োজন অনুযাযী পুঁজি ও কারিগরী সহযোগিতা প্রদান। সেদিন আর বেশি দূরে নয় যে দিন তাদের অবস্থা পরিবর্তনে তারা নিজেরাই হবে মূখ্য নিয়ামক।

মিনি ফার্ম কার্যক্রমঃ  দ্বিতীয় প্রান্তিকে মিনিখামারের আদায়যোগ্য টাকার পরিমাণ ১ কোটি ৩১ লক্ষ ৬৬ হাজার ০৬৪ টাকা। আদায় প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। গাভীর বীমা প্রদান কর্মসূচি সজাগ এই প্রথমবারের মত শুরু করেছে। এরই আলোকে মিনি খামারের এ পর্যন্ত সর্বমোট ৮ টি গাভীর মৃত্যুজনিত কারণে গাভী বীমা ৫ লক্ষ ৯৩ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে ।

কৃত্রিম প্রজনন কার্যক্রমঃ গবাদিপশুর জাত উন্নয়নের লক্ষ্যে সজাগ ইতোমধ্যে বুল স্টেশনের স্থাপনা কাজ প্রায় ৯০ শতাংশ শেষ করেছে। এ জন্য প্রথম পর্যায়ে ৫ (পাঁচ) টি এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে ১২ টি উন্নত জাতের জাপান ফ্রিজিয়ান ষাঁড় ক্রয় করেছে। প্রজনন কেন্দ্র স্থাপন ও সিমেন কালেকশনের লক্ষ্যে সজাগ  ১ জন ভেটেরিনারি ডাক্তার ও ৫ (পাঁচ) জন কর্মী/প্যারাভেটকে দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। যেহেতু কার্যক্রমটি নতুন তাই কাজে সহযোগিতার জন্য ১ জন অবসরপ্রাপ্ত ভেটেরিনারী অফিসার কনসালটেন্ট হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। বুল স্টেশন স্থাপনের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সংগ্রহের কাজ প্রায় শেষের দিকে।

বায়োগ্যাস প্লান্ট কর্মসূচিঃ পরিবেশ দূষণমুক্ত ও মিনি খামারকে টেকসই করার জন্য প্রতিটি মিনি খামারে বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপনের কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রতিবেদনকালীন সময়ের  মধ্যে  ১৩৪টি বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপন করা হয়েছে। এই নিয়ে বায়োগ্যাস প্লান্ট এর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে মোট ১৮৭টি। আরও বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপনের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। আগামী ২ বছরের জন্য বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপন করার লক্ষ্যে বাৎসরির পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে।

প্রশিক্ষণঃ প্রাণিসম্পদ কর্মসূচির পক্ষ হতে সদস্যদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। প্রতিবেদনকালীন সময়ে ৬৯ জন কৃষি ও প্রাণিসম্পদ কর্মীকে গবাদি পশু লালন-পালন ও চিকিৎসা বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে । কুয়েত গুডউইল ফান্ড সুফলন কর্মসূচির মাধ্যমে ৩ মাসের মধ্যে ৩৭৫ জন অগ্রগামী কৃষককে গরুমোটাতাজাকরণ বিষয়ক কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।

ক্ষুদ্র উদ্যোগ ঋণ কার্যক্রম

ক্ষুদ্র উদ্যোগ ঋণ কার্যক্রম কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি সদস্যদের মধ্যে আতœনির্ভশীলতা অর্জনের কর্মপ্রচেষ্টাকে জোরদার করে। ইতোমধ্যে ৪টি জেলার ৮টি উপজেলার ৪৫টি ইউনিয়নের ২৭৫টি গ্রামে এ কার্যক্রম সম্প্রসারিত হয়েছে। বর্তমানে মোট সমিতি সংখ্যা ৬৪১টি। তার মধ্যে নারী সমিতি ২৪৬টি এবং পুরুষ সমিতি ৩৯৫৮টি। সমিতির সদস্যসংখ্যা ৩৮৪৭ জন (নারী ৯৩০, পুরুষ ২৯১৭)। নারী ও পুরুষ মিলে প্রতিবেদনকালীন সময়ে ঋণ গ্রহীতার সংখ্যা ২৭৫০ জন। ক্ষুদ্র উদ্যোগ কার্যক্রমে কর্মরত কর্মীর সংখ্যা ৩৬ জন। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে ১০,১০০ জনের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তার মধ্যে ৬,৬৪৫ জন পূর্ণকালীন এবং ৩,৪৫৫ জন খন্ডকালীন কর্মী। এ কার্যক্রমে ঋণ স্থিতি ৩১ কোটি ১০ লক্ষ ২৬ হাজার ৪শ’ ৯৫ টাকা। সঞ্চয়স্থিতি ৮ কোটি ৪ লক্ষ ৯৭ হাজার ৪শ’ ২৯ টাকা। ক্ষুদ্র উদ্যোগ কার্যক্রমে যে সকল খাতে বেশি ঋণ প্রবাহ রয়েছে তা হচ্ছে।

গ্রামীণ ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম

দারিদ্র্য বিমোচন, ক্ষমতায়ন ও দরিদ্রদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সজাগ ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচি গ্রহণ করে। ক্ষুদ্র ঋণে নারীর অংশগ্রহণ শুধু যে পুরুষের ঋণ পরিশোধে অনীহা, অসহযোগী মনোভাব, সংঘশক্তি সৃষ্টিতে কিংবা সাংগঠনিক কর্মকা-ে নিষ্ক্রিয়তার কারণে সৃষ্টি হয়েছে তা নয়, বরং গ্রামের অবহেলিত নারীরা ক্ষুদ্র ঋণের সুযোগকে আর্শীবাদ হিসেবে গ্রহণ করেছে। সজাগ বর্তমানে ৪টি জেলার ৯টি উপজেলার ৪৫টি ইউনিয়নের ৩৫০টি গ্রামে ১ হাজার ২৮টি সমিতিেিত ১২,৮১১ জন মহিলা সদস্যের মধ্যে গ্রামীণ ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এ প্রান্তিকে ঋণ গ্রহীতার সংখ্যা ৬,২৩৬ জন, ঋণস্থিতি ৮ কোটি ৩৩ হাজার ৫শ ২০ টাকা। এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করার জন্য ৪৯ জন কর্মী  সরাসরি নিয়োজিত আছেন।

মহিলা সমিতিঃ গ্রামীণ ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রম মূলত মহিলা সমিতির মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়। গ্রামের মহিলাদের সংগঠিত করে আতœনির্ভরশীলতা অর্জনের লক্ষ্যে গ্রামীণ ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচি শুরু হয়। শুরুতে সজাগ ৩ জন স্বেচ্ছাসেবক নিয়ে সোমভাগ ইউনিয়নের অন্তর্গত শৈলান গ্রামসহ ৫টি গ্রামে মহিলা সমিতি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করে। পরবর্তীসময়ে এই মহিলা সমিতির সদস্যরা নির্বাচনের মাধ্যমে সভাপতি, সহসভাপতি, কোষাধ্যক্ষ নির্বাচিত করে। সমিতি পর্যায়ে গ্রামীণ ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রম নির্বাচিতদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরিচালিত হয়।

অতি দরিদ্র উন্নয়ন কার্যক্রমঃ এ প্রতিবেদনকালীন সময়ে ‘সজাগ’ নতুন আঙ্গিকে অতিদরিদ্র উন্নয়ন কার্যক্রম পুনরায় শুরু করে। সজাগ অতিদরিদ্র বলতে তার কর্ম এলাকার এমন দরিদ্রদের চিহ্নিত করেছে যারা কেবল সহায় সম্পদহীন নয়, শিক্ষা-দীক্ষায়, জ্ঞান-দক্ষতায়, চিন্তা-চেতনায় দরিদ্র। এই দরিদ্র মানুষগুলোর মাঝেও যে সুপ্ত সম্ভাবনা আছে তার বিকাশ ঘটিয়ে নতুন কর্মকৌশলের মাধ্যমে আতœবিশ্বাস ও উপযুক্ত সাহস জ্ঞান, পুঁজি সরবরাহ করাই এই কার্যক্রমের অন্যতম উদ্দেশ্য। বর্তমানে ৫ টি শাখায় ৫শ ৯৪ জন সদস্যদের মাঝে ৩৮ লাখ ৯৩ হাজার ৮শ ৮১ টাকা ঋণস্থিতি রয়েছে। শাখাগুলো হচ্ছে- শৈলান, ধানতারা, বালিয়া, কাওয়ালীপাড়া, এবং নান্নার।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচি

রানা প্লাজা ধ্বসে সাভার ট্র্যাজেডি আমাদের জাতীয় জীবনে একটি ভয়াবহ বিপর্যয়। এই বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সজাগ-এর পক্ষ থেকে ৩৩ জনকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৭ জন ক্ষতিগ্রস্তকে এককালীন আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে যার পরিমাণ ৯ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা এবং ১৬ জন ক্ষতিগ্রস্তকে বিভিন্ন মেয়াদে মাসিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। জুলাই, ২০১৩ থেকে জুন, ২০১৬ পর্যন্ত ১৬টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে মাসিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে ১০ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। জুন, ২০১৬ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্থদের সহায়তা করার মেয়াদ ছিল। এ পর্যন্ত ৩৩ জন ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে সর্বমোট ২০ লক্ষ ১৫ হাজার টাকা সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের এককালীন ও মাসিক আর্থিক সহায়তা প্রদানের খাতগুলো হলো- পরিবারের ভরণ-পোষণ, সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ, গাভী পালন, মুদি দোকান, দর্জি দোকান, জমি বন্ধকী, চিকিৎসা খরচ ইত্যাদি।

আউটসোর্সিং সার্ভিস

সজাগ আউটসোর্সিং কর্মসূচির মাধ্যমে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহারকে কাজে লাগিয়ে এদেশের শিক্ষিত তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ করে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখে। একই সাথে তরুণ প্রজন্মের মেধাকে সঠিক পথে কাজে লাগিয়ে পেশাদারী যোগ্যতা অর্জনসহ আয়মূলক ক্ষেত্র তৈরি করার কথা ভাবে। যার মাধ্যমে জাতীয় অর্থনৈতিক ভিত্তিকে মজবুত করা সম্ভব হবে। সজাগ এর কর্মএলাকার শিক্ষিত তরুণ প্রজন্মকে প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ২০১৪ সালের মাঝামাঝি ধামরাই-এর কালামপুরস্থ সজাগ সেন্টারে এই কর্মসূচি চালু করে। প্রতিবেদনকালীন সময়ে এই কর্মসূচির জন্য জনবল নিয়োগ, কম্পিউটার সরঞ্জমাদি ক্রয়, নিরবচ্ছিন্ন ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৭টি ব্যাচের মাধ্যমে ৬৬ জন তরুণ-তরুণীকে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে এবং এই প্রশিক্ষণ অব্যহত আছে। এই প্রশিক্ষণের পর যে সকল শিক্ষিত নারী-পুরুষ বাড়িতে থেকে আয়মূলক কাজ করতে ইচ্ছুক তারা ঘরে বসেই আউটসোর্সিং এর কাজ করতে পারবেন। আউটসোর্সিং এর ধারণা  সজাগ-এর কর্মএলাকার সকল আগ্রহী ব্যক্তির দ্বারে পৌঁছে দেয়া হয়েছে।